হি'ল্লা বিয়েতে কি স'হ'বা'স করতেই হবে? নাকি না করলেও হবে বিস্তারিত কমেন্টে...

 

হি'ল্লা বিয়েতে কি স'হ'বা'স করতেই হবে? নাকি না করলেও হবে বিস্তারিত কমেন্টে...


তিন তালাকের পর আগের স্বামী-স্ত্রীর পুনরায় বিয়ে নিয়ে ইসলামী শরিয়তে একটি নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। এ বিষয়কে ঘিরে সমাজে ‘হিল্লা বিয়ে’ নামে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণাও রয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন ওঠে—তিন তালাকের পর একজন নারী অন্য পুরুষকে বিয়ে করলে, আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ার জন্য দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা কি আবশ্যক, নাকি শুধু নিকাহ করলেই যথেষ্ট?


বিষয়টি বুঝতে হলে কুরআনের বিধান, সহিহ হাদিস এবং পরিকল্পিত ‘হিল্লা’ বা তাহলীলের বিষয়টি আলাদাভাবে বোঝা প্রয়োজন।


📖 তিন তালাকের পর কুরআনে কী বলা হয়েছে?

সূরা আল-বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তৃতীয়বার তালাক দেওয়ার পর ওই নারী আগের স্বামীর জন্য বৈধ থাকেন না, যতক্ষণ না তিনি অন্য একজন স্বামীকে বিয়ে করেন।


তবে এর অর্থ এই নয় যে, আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে সাময়িকভাবে অন্য একজনকে বিয়ে করতে হবে। দ্বিতীয় বিয়েটি হতে হবে বাস্তব ও স্বাভাবিক বৈবাহিক সম্পর্কের উদ্দেশ্যে।


অর্থাৎ, কেবল আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার একটি ‘আইনি কৌশল’ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ে করা কুরআনের বিধানের উদ্দেশ্য নয়।


❓ শুধু নিকাহ করলেই কি আগের স্বামীর জন্য বৈধ হবে?

না।


সহিহ হাদিসের ভিত্তিতে আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, দ্বিতীয় বিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলেই যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচ্য।


সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে রিফাআহর সাবেক স্ত্রীর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।


তাই শুধু কাগজে-কলমে নিকাহ, লোক দেখানো বিয়ে কিংবা নামমাত্র দ্বিতীয় বিয়ে—তিন তালাকের পর আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ের বৈধতা তৈরি করে না।


⚠️ ‘হিল্লা বিয়ে’ বলতে কী বোঝায়?

‘হিল্লা’ বা তাহলীল বলতে সাধারণভাবে এমন একটি পরিকল্পিত বিয়েকে বোঝানো হয়, যেখানে আগে থেকেই উদ্দেশ্য থাকে—একজন পুরুষ তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ে করবেন এবং পরে তাকে তালাক দেবেন, যাতে তিনি আগের স্বামীকে আবার বিয়ে করতে পারেন।


এ ধরনের পরিকল্পিত তাহলীল শরিয়তের স্বাভাবিক বৈবাহিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হাদিসে এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।


অর্থাৎ, তিন তালাকের পর আগের স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাউকে ‘ব্যবস্থা করে’ বা চুক্তির ভিত্তিতে বিয়ে করানো ইসলামী বিবাহের স্বাভাবিক পদ্ধতি নয়।


💍 দ্বিতীয় বিয়ে স্বাভাবিকভাবে হলে কী হবে?

ধরা যাক, কোনো নারী তিন তালাকের পর অন্য একজন পুরুষকে স্বাভাবিক ও প্রকৃত বিবাহের উদ্দেশ্যে বিয়ে করলেন। দ্বিতীয় বিয়ের সময় আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য তালাকের কোনো চুক্তি বা পরিকল্পনা ছিল না।


পরবর্তীতে সেই দ্বিতীয় বিবাহ কোনো স্বাভাবিক কারণে—যেমন দাম্পত্য বিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর কারণে—শেষ হলে, নির্ধারিত ইদ্দত সম্পন্ন করার পর এবং অন্যান্য শরয়ি শর্ত পূরণ হলে আগের স্বামীর সঙ্গে নতুন করে বিয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দ্বিতীয় বিয়েটি যেন শুরু থেকেই প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ‘উপায়’ হিসেবে পরিকল্পিত না হয়।


🔎 ‘স,হ,বা,স করতেই হবে’ কথাটির সঠিক অর্থ কী?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।


যদি ‘হিল্লা’ বলতে পরিকল্পিতভাবে আগের স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা বিয়ে বোঝানো হয়, তাহলে এমন পরিকল্পিত বিয়েটিই শরিয়তসম্মত পদ্ধতি নয়। তাই এটিকে ‘সহবাস করিয়ে দেওয়ার একটি নিয়ম’ হিসেবে দেখা ভুল।


অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিয়ে যদি সত্যিকারের বৈবাহিক উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়, তাহলে শুধু নিকাহ করেই আগের স্বামীর জন্য বৈধতা তৈরি হয় না। সহিহ হাদিসে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচ্য।


অতএব, ইসলামী বিধানকে ‘হিল্লা বিয়েতে সহবাসের নিয়ম’ হিসেবে উপস্থাপন না করে বিষয়টিকে তিন তালাকের পর পুনর্বিবাহের নির্দিষ্ট শরয়ি বিধান হিসেবে বোঝা উচিত।


🕌 দ্বিতীয় বিয়ে স্বাভাবিকভাবে শেষ হলে

দ্বিতীয় বিবাহ যদি সত্যিকারের দাম্পত্য জীবন গড়ার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে সেটি স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়ে যায়, তাহলে নারীকে তার ইদ্দত সম্পন্ন করতে হবে। এরপর অন্যান্য শরয়ি শর্ত পূরণ হলে আগের স্বামীর সঙ্গে নতুন করে বিবাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


কিন্তু শুরু থেকেই যদি পরিকল্পনা থাকে—‘বিয়ে হবে, এরপর তালাক হবে, তারপর প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাবে’—তাহলে সেটি পরিকল্পিত তাহলীলের মধ্যে পড়ে এবং এ ধরনের ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকা জরুরি।


📌 সংক্ষেপে উত্তর

প্রশ্ন: হিল্লা বিয়েতে কি সহবাস করতেই হবে?


উত্তর হলো—পরিকল্পিত ‘হিল্লা’ বিয়েকে শরিয়তের অনুমোদিত কোনো পদ্ধতি হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। তিন তালাকের পর কোনো নারী অন্য একজন পুরুষকে সত্যিকারের বৈবাহিক উদ্দেশ্যে বিয়ে করলে, শুধু নিকাহ সম্পন্ন করাই আগের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহের জন্য যথেষ্ট নয়; সহিহ হাদিসের আলোকে প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচ্য।


পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে স্বাভাবিকভাবে শেষ হলে, ইদ্দতসহ অন্যান্য শরয়ি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগের স্বামীর সঙ্গে নতুন করে বিয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে তিন তালাকের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একসঙ্গে তিন তালাক বলা, তালাকের শব্দ ও পরিস্থিতি, নিয়ত এবং সংশ্লিষ্ট মাজহাবের ফিকহি মতের কারণে বাস্তব ঘটনায় বিধান ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো বাস্তব দাম্পত্য সমস্যায় সামাজিকভাবে প্রচলিত ‘হিল্লা’ পদ্ধতি অনুসরণ না করে যোগ্য আলেম বা মুফতির কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে শরয়ি সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।


বিস্তারিত কমেন্টে...

Comments

Popular posts from this blog

খাটের সঙ্গে বে*ধে পেলেন মাকে, ধ*র্ষ*ণ করেন বড় মেয়ে কে এর পর ছোট মেয়ে কে.... see more

বগুড়ার বিয়ের পরের দিন মেয়েটি তার বাবা-মা কে জানালো, বাসর রাতে তার স্বামী

যে লোভে তাজনিনকে কক্সবাজার নেন রাজু, বেরিয়ে আসলো আসল তথ্য....see more