ঢাকায় ছোটখাটো একটা গাড়ি চালাতো খোকন। গাড়ি চালিয়েই কোনমতে চলতো তার জীবন...see more

 


ঢাকায় ছোটখাটো একটা গাড়ি চালাতো খোকন। গাড়ি চালিয়েই কোনমতে চলতো তার জীবন। 


ইনকামের কিছু টাকা গ্রামে মায়ের কাছে পাঠাতো আর কিছু টাকা দিয়ে সে নিজে চলতো। মাঝেমধ্যে খাওয়ার টাকা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে নতুন শার্ট-প্যান্ট কিনতও সে। 


গরিব মানুষ তাই কদাচিৎ শখ আল্লাদ পূরণ করার সুযোগটা হতো।


জুলাই আন্দোলনের সময় খোকন ছিল যাত্রাবাড়ীতে। আন্দোলনের কারণে তেমন একটা গাড়ি চালানো হচ্ছিল না তার। তাই মাঝেমধ্যে ছাত্রদের সাথেই যোগ দিত আন্দোলনে। 


তারপর যখন ৫ই আগস্টে লং মার্চের ঘোষণা আসলো সে আর বসে থাকতে পারেনি, বাকিদের সাথে চলে আসে যাত্রবাড়ীতে। 


গলির রাস্তায় প্রায় দশ-পনেরো মিনিট বিজয় মিছিল করে তারা সবাই চলে আসে মেইন রাস্তায়। মেইন রোডে উঠেই স্লোগান দিতে থাকে খোকন। সবার চোখেমুখে তখন বিজয়ের হাসি। 


কিন্তু মিছিল যখন যাত্রাবাড়ী থানার কাছাকাছি আসে তখন গোলাগু*লির প্রচন্ড শব্দ শুনতে পায় সবাই। বিকট শব্দে ছেয়ে যায় চারদিক।


তারপরও আরেকটু সামনে এগোয় সবাই। সবার মনে তখন বিজয়ের উন্মাদনা। কিন্তু কিছুদূর সামনে এগিয়েই দেখতে পায় অনেকগুলো পুলিশ গু*লি করতে করতে সামনে এগিয়ে আসতেছে।


টিয়ারগ্যাসের ধোঁয়ার কারণে এতক্ষণ দেখা যায়নি। 


এবারে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দৌঁড় দেয় সবাই। যে যার মত করে গলিতে গিয়ে লুকাচ্ছিলো। তাই খোকনও দৌঁড় দেয়। 


কিন্তু দৌঁড়ে কিছুদূর যাওয়ার পর দেখতে পায় তার পেছন দিকেও পুলিশ। এবারে কোনদিকে যাবে বুঝে উঠতে পারে না সে। ভয়ে হাত পাও অবশ হয়ে পড়ে তার। 


দৌঁড় দিতে গিয়ে সে লক্ষ্য করে আর দৌঁড়াতে পারছে না। পা দুটো পাথরের মত শক্ত হয়ে আছে। তাই দৌঁড় না দিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ে সে। 


ততক্ষণে পুলিশ গুলো তার একদম কাছাকাছি চলে আসে। সে হাত উঁচু করে সারেন্ডার্ড করার ভঙ্গিতে দাঁড়ায়। ভেবেছিল এমনটা করলে পুলিশের মনে খানিকটা দয়া হবে আর তাকে ছেড়ে দিবে। 


পুলিশ তার আরও কাছাকাছি আসে। এবারে সে পুলিশের কাছে কেঁদে কেঁদে হাতজোড় করে মাফ চাইতে থাকে কিন্তু পুলিশগুলো শুনে না। 


একপর্যায়ে পুলিশের পায়ে ধরে সে বলে- স্যার আমারে ছাইড়া দেন। গরিব মানুষ, কোন দোষ করি নাই।


কিন্তু পুলিশগুলো তার কোন কথাই শুনে না। পা ধরা অবস্থা থেকে কলার ধরে টেনে উপরে তুলে তাকে। তারপর একটা পুলিশ খোকনের মুখের একদম সামনে একটা শটগান তাক করে।


তারপর শটগান দিয়েই গু*লি করে তার চোখেমুখে। শটগানের তীব্রতায় দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে খোকন। তার ঠোঁট, নাক এবং মুখের অনেকটা অংশ মুহুর্তেই নাই হয়ে যায়। 


পুরো রাস্তা জুড়ে টগবগ করে র*ক্ত পড়ছিল আর খোকন হা পা নাড়ছিল। তার জিভটা শুধু দেখা যাচ্ছিল তখন। 


খোকনের এই অবস্থা দেখে পুলিশরা অনেক খুশি হয় এবং হাসতে হাসতে সেখান থেকে চলে চায়। 


আশেপাশে লুকিয়ে থাকা মানুষজন তখন দৌঁড়ে খোকনের কাছে আসে। তার এই অবস্থা দেখে সবাই ভেবেছিল সে হয়তো মারা গেছে। তাই তাকে বাদ দিয়ে অন্য আহতদের সাহায্য করছিল। 


যে পুলিশটা তাকে গু*লি করেছিল, সে ইচ্ছাকৃতভাবেই তার মুখ বরাবর গু*লি করেছিল যাতে নিদারুণ কষ্ট পেয়ে মারা যায় সে।


কিন্তু খোকন তখনও মরেনি, কিছুটা সেন্স ছিল তার। সে সাহায্যের জন্য কোনরকম হাতের আঙ্গুলগুলো নাড়াচ্ছিল যাতে আশেপাশের মানুষজন বুঝতে পারে সে বেঁচে আছে। 


তার আঙ্গুল নড়তে দেখে দুজন লোক বুঝতে পারে সে এখনও জীবিত আছে। তারপর সবাই দৌঁড়ে ছুটে আসে তার কাছে এবং দ্রুত তুলে নিয়ে যায় হাসপাতালে। 


হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তাররা দেখতে পায় তার নাক, মুখ কিছুই নেই। তাই শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্যে কৃত্রিম যন্ত্র লাগানো হয়। 


খোকনের ক্ষত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়েও সন্দেহ ছিল। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাসের চিকিৎসায় বেঁচে যায় সে। তার চেহারার অবস্থা এখনও ভয়াবহ। 


খোকনের বড় ভাই খোকা আফসোস করতে করতে বলছিল- আমার ভাই সবসময় পরিপাটি ছিল এবং চেহারা নিয়ে সচেতন ছিল। 


এখন তার নাক-মুখ নাই, চেহারার অবস্থায় ভয়াবহ। প্রথমবার যখন তাকে হাসপাতালে দেখি, আমি চিনতেই পারি নাই যে এটা আমার ভাই।


খোকনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন একটা ভালো না। তার বড়ভাই খোকাও গাড়িচালক। বেশ কিছুদিন ধরে কাজ থেকে বিরত থেকেছে ভাইয়ের যত্ন নিতে। 


ডাক্তাররা জানিয়েছিল বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা না করালে খোকনের মুখ কখনোই ঠিক হবে না। দেশে বহু চিকিৎসার পরও খোকনের মায়াভরা মুখটা আর ঠিক করা যায়নি।


খোকন ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু সে জানতো না এর জন্য তার তার সুন্দর চেহারাটা হারাতে হবে। 


খোকন আফসোস করে বলছিল- পুলিশদের কাছে গু*লি না করার কত অনুরোধ করছিলাম সেদিন! ওরা চাইলেই আমাকে ছাইড়া দিতে পারত। 


কিন্তু ওরা ছাড়ে নাই। এমনভাবে গু*লি করেছে মনে হইছে আমি ওদের শত্রু। কিন্তু কি ক্ষতি করছিলাম ওদের?


হাসপাতালের বেডে শুয়ে খোকন আরও অনেককিছুই বলতে চায়। কিন্তু নাক-মুখ না থাকায় বলতে পারে না। তার কথাবার্তাও অস্পষ্ট, কেউই বুঝতে পারে না।


খোকন কাঁদতে কাঁদতে আফসোস করে বলছিল- আমি সবসময় চুলে তেল দিয়ে, মুখে ক্রিম দিয়ে একটু পরিপাটি হয়ে থাকতে চাইতাম। গরিব ছিলাম কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করতাম। 


শীতের দিনে আমার পকেটে একটা মেরিলের কৌটা থাকতো। ঠোঁট ফাইটা যাইতো বলে দিতাম। 

মেরিলের কৌটাটা এখনো পকেটেই আছে। 


ওটা দেখলেই আমার আগের চেহারাটার কথা মনে পড়ে। তখন আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। কিন্তু গিয়া দেখি আমার নাক,মুখ,ঠোঁট কিছুই আর নাই

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

15s

⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments

Popular posts from this blog

মধ্যযুগের মহিলাদের মধ্যে পর'কীয়া ঠেকানোর বিরল পথ- অদ্ভুত অভ্যাস ছিল। বিবাহিত মহিলারা...more

শারীরিক সম্পর্ক কত সময় হলে স্বাভাবিক ধরা . more

ব্রেকিং:দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা...see more