ধর্ষিত মেয়ে প্রেগন্যান্ট হলে এবরশনের বিষয়ে ইসলাম কি বলে?…see more
ধর্ষিত মেয়ে প্রেগন্যান্ট হলে এবরশনের বিষয়ে ইসলাম কি বলে?
প্রথম কথা হলো, গর্ভপাত বা এবরশন একটা মানবতাবিরোধী কাজ, বিনা ওজরে গর্ভপাত ঘটানো অপরাধ। ভ্রুনের মাঝে যখন রুহ সঞ্চার হয়, তখন তা করা হারাম, কেবল মাত্র গর্ভ কন্টিনিউ করলে মায়ের প্রাণহানি বা অঙ্গহানি ঘটার প্রবল ধারণা হলেই ফুকাহাগন বিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শের বিবেচনায় এর অনুমতি দিয়েছেন।
রুহ সঞ্চার হওয়ার আগেও বিনা ওজরে গর্ভপাত ঘটানো না-জায়েজ। তবে কিছু যৌক্তিক ওজরের বিবেচনায় ফুকাহাগন অনুমতি দিয়েছেন।
ধর্ষণ একজন নারীর জন্য বিশাল মানসিক আঘাতের কারণ, ধর্ষকের সন্তান পেটে ধারণ অনেক সময় আরও বড় মেন্টাল ট্রমার কারণ হয়। অনেক সময় তা মেজর সাইকিয়াট্রিক অসুস্থতায় রূপ নেয়। পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার অনেক সময় ধর্ষিতার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে। কিছু স্টাডিতে ধর্ষণজনিত গর্ভাবস্থার পর সৃষ্ট মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে মেডিকেল এবরশন পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতির কারণে ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর নেগেটিভ প্রভাব মেডিকেল সায়েন্স দ্বারা প্রমাণিত।
কাজেই ধর্ষণজনিত গর্ভাবস্থায় একজন নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেগেটিভ প্রভাব বিবেচনায় একজন দ্বীনদার মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ভিত্তিতে ভ্রুনের বয়স চারমাস পূর্ণ হওয়ার আগে এবরশন করানো যেতে পারে। এ ধরণের ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি এবরশন করানো যায়, ততই নারীর স্বাস্থ্যের জন্য এবরশনজনিত ঝুঁকির পরিমাণ কম।
তবে সবচেয়ে উত্তম হলো, ধর্ষিতা হওয়ার পর পরই ৭২ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই ধর্ষিতা নারীকে ইমারজেন্সী পিল খাইয়ে দেয়া যেন গর্ভাবস্থা এড়ানো যায়।
তবে চারমাস পূর্ণ হয়ে গেলে মায়ের প্রাণহানি বা অঙ্গহানি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছাড়া এবরশন করানো হরাম। তবে এক্ষেত্রে সিরিয়াস মেন্টাল অসুস্থতা একটা ওজর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে একজন দ্বীনদার মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সাপেক্ষে।
•
যদি গর্ভস্থ ভ্রুনের বয়স চার মাস হয়ে যায় তাহলে সেটা কে নষ্ট করা বা গর্ভপাত করানো কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই। আর যদি ভ্রুনের বয়স চার মাস থেকে কম হয় এবং দ্বীনদার, অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তার এ কথা বলে যে,বাচ্ছা জন্ম নিলে নিশ্চিত বা প্রবল ধারণা অনুযায়ী মায়ের প্রাণ নাশের বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে অথবা যদি মার স্বাস্থ্য গর্ভাবস্থা সহ্য করতে না পারে বা প্রথম সন্তানকে পরিচর্যা সহ শিক্ষা দিতে অসুবিধার আশঙ্কা থাকে এবং সঠিক পরিচর্যা করতে পারবে না বলে আশংকা হয় তাহলে গর্ভপাত করার সুযোগ রয়েছে, চাইলে গর্ভপাত করাতে পারবে।
আর যদি রিজিকের আশংকায় এরূপ করে তাহলে গর্ভের ভ্রুন নষ্ট করা জায়েয হবে না। যদিও গর্ভের বয়স চার মাসের চেয়ে কম হয়। আর যদি উল্লেখযোগ্য কোনো অতিব প্রয়োজন না দেখা দেয় তাহলে চার মাসের কম বয়সের ভ্রুন কেও নষ্ট করা বা গর্ভপাত করানো জায়েয হবে না।
•
যিনা হোক বা ধর্ষণ কোনটিতেই যিনাকার বা ধর্ষকের দিকে বাচ্চার নসব সাবিত হয় না। সে তার মায়ের দিকে সম্বন্ধিত হবে, মা তার ওয়ারিস হবে, সে মায়ের ওয়ারিস হবে।
ধর্ষককে তো আইনের আওতায় আনা জরুরী, জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। তখন এই সন্তানের লালনপালনের দায়ভার রাষ্ট্রের। কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চার মতো।
যিনার ক্ষেত্রে গর্ভধারণ হলে ঐ মেয়েকে যদি ছেলে বিয়ে করে এ ব্যাপারে পরে ঐ ছেলে তার দিকে সম্বন্ধিত হবে এ ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা রঃ এর একটা কওল আছে, “এতে আমি কোন অসুবিধা দেখি না।”
অর্থাৎ যিনার কারণে গর্ভধারণ হলো, পরে উভয়ের মাঝে বিয়ে হলো, বিয়ের ৬মাস পর সন্তান হলো, স্বাভাবিকভাবেই নসব সাবিত হবে।
যিনার কারনে বাচ্চা ও ধর্ষণের কারনে বাচ্চার আহকামের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।
— মু. মাসিহ উল্লাহ (হাফি.)
📌 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে Guidelines to Jannah কে ফলো দিয়ে রাখুন।👍🌻💛
فتاوی شامی میں ہے:
"وقالوا: يباح إسقاط الولد قبل أربعة أشهر ولو بلا إذن الزوج.
(قوله: وقالوا إلخ) قال في النهر: بقي هل يباح الإسقاط بعد الحمل؟ نعم! يباح ما لم يتخلق منه شيء ولن يكون ذلك إلا بعد مائة وعشرين يوماً، وهذا يقتضي أنهم أرادوا بالتخليق نفخ الروح وإلا فهو غلط؛ لأن التخليق يتحقق بالمشاهدة قبل هذه المدة، كذا في الفتح. وإطلاقهم يفيد عدم توقف جواز إسقاطها قبل المدة المذكورة على إذن الزوج. وفي كراهة الخانية: ولا أقول بالحل إذ المحرم لو كسر بيض الصيد ضمنه؛ لأنه أصل الصيد، فلما كان يؤاخذ بالجزاء فلا أقل من أن يلحقها إثم هنا إذا سقط بغير عذرها اهـ قال ابن وهبان: ومن الأعذار أن ينقطع لبنها بعد ظهور الحمل وليس لأبي الصبي ما يستأجر به الظئر ويخاف هلاكه. ونقل عن الذخيرة لو أرادت الإلقاء قبل مضي زمن ينفخ فيه الروح هل يباح لها ذلك أم لا؟ اختلفوا فيه، وكان الفقيه علي بن موسى يقول: إنه يكره، فإن الماء بعدما وقع في الرحم مآله الحياة فيكون له حكم الحياة كما في بيضة صيد الحرم، ونحوه في الظهيرية قال ابن وهبان: فإباحة الإسقاط محمولة على حالة العذر، أو أنها لاتأثم إثم القتل اهـ. وبما في الذخيرة تبين أنهم ما أرادوا بالتحقيق إلا نفخ الروح، وأن قاضي خان مسبوق بما مر من التفقه، والله تعالى الموفق اهـ كلام النهر ح."
(3 / 176، مطلب فی اسقاط الحمل، باب نکاح الرقیق، ط: سعید)
(الدرالمختار مع الشامي، كتاب الحظر والإباحة، باب الاستبراء وغیره، ،کراچی ۶/ ۴۲۹)
"العلاج لإسقاط الولد إذا استبان خلقه کالشعر والظفر ونحوهما لایجوز، وإن کان غیر مستبین الخلق یجوز … امرأة مرضعة ظهربها حبل وانقطع لبنها، وتخاف علی ولدها الهلاک، ولیس لأبي هذا الولد سعة حتی یستأجر الظئر یباح لها أن تعالج في استنزال الدم مادام نطفة أو مضغة أو علقة لم یخلق له عضو وخلقه لایستبین إلا بعد مائة وعشرین یوماً أربعون نطفةً وأربعون علقةً وأربعون مضغةً، کذا في خزانة المفتیین، وهکذا في فتاوی قاضي خان".
(هندیة، کتاب الکراهیة، الباب الثامن عشر: في التداوي والمعالجات وفیه العزل وإسقاط الولد، ۵/ ۴۱۱-۴۱۲)
الموسوعة الفقهیة الکویتیة (۳۰/ ۲۸۵):
"وذهب الحنفیة إلی إباحة إسقاط العلقة حیث أنهم یقولون بإباحة إسقاط الحمل ما لم یتخلق منه شيء ولم یتم التخلق إلا بعد مائة وعشرین یوماً، قال ابن عابدین: وإطلاقهم یفید عدم توقف جواز إسقاطها قبل المدة المذکورة علی إذن الزوج، وکان الفقیه علي بن موسی الحنفي یقول: إنه یکره فإن الماء بعد ما وقع في الرحم مآله الحیاة، فیکون له حکم الحیاة کما في بیضة صید الحرم، قال ابن وهبان: فإباحة الإسقاط محمولة علی حالة العذر أو أنها لا تأثم إثم القتل"
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment